Showing posts with label facebook. Show all posts
Showing posts with label facebook. Show all posts

পাঞ্জা

বুড়ো মানুষ দেখলেই কিছু কিছু বিচ্ছু ছেলে আছে, জ্বালাতন শুরু করে। নানা রকম পদ্ধতি তে।
আমার এক পরিচিত বৃদ্ধ মানুষ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, কিছু ছেলে হাজির হল।
'ও দাদু ,কোথায় যাচ্ছেন? 'তারা জিজ্ঞেস করল।
দাদু উত্তর দিলেন না। আবার তারা জিজ্ঞেস করল। এবারও তিনি নিরুত্তর।
তাদের মধ্যে একজন বললে, 'দাদু বোধহয় সামনে মেয়ে দেখে আমাদের ভুলে গেছে।'
রাস্তা দিয়ে সত্যিই তখন কয়েকটি মেয়ে যাচ্ছিল।
দাদু এবার মুখ খুললেন, 'বাবা রা সব ,আমায় জ্বালাতন করবেনা।'
একটি ছেলে নিরীহ মুখ করে বলল, 'কোথায় জ্বালাতন করলাম। আমরা তো কেবল জিজ্ঞেস করছি কোথায় যাচ্ছেন?'
আরেকজন বলল, 'আঃ ছেড়ে দে না, দাদুর দেরি হয়ে যাচ্ছে। মেয়ে গুলো এগিয়ে গেছে।'
দাদু ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আমায় ঘাঁটিয়োনা ,আমি তোমাদের মতই চ্যাংড়া আছি।'
ওরা হেসে উঠল।
দাদু সেই মুহূর্তে একটা ঢিল কুড়িয়ে নিলেন। তারপর সামনে থাকা মেয়েদের দলের মাঝে ঢিল টা ছুড়ে মারলেন।
মেয়ে গুলো ঘুরে দাঁড়িয়ে পড়ল।
'কে মারল ঢিল?'তারা দেখতে পেল তিন ছেলে ও একজন বৃদ্ধ লোক পেছন পেছন আসছে।
সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গুলোর কাছে চলে গেল, 'এই তোমরা ঢিল ছুড়লে কেন?'
ছেলে গুলো হতভম্ব,তারা বুঝতে পারলনা কিছু। মেয়ে গুলোর হম্বি তম্বিতে লোকজন হাজির হয়ে গেল। ছেলেগুলোকে তখন, 'তোদের সাহসতো কম নয়, একে বারে মেরে হাসপাতাল পাঠিয়ে দেব। মেয়েদের সাথে বদমাসি?'
ছেলেগুলো প্রাণপনে বোঝাবার চেষ্টা করল,'আমরা ঢিল ছুড়িনি। আমরা কেন ছুড়তে যাব?
'তারপর দাদু কে দেখিয়ে বলল, 'ইনি করেছেন।'
দাদুর নাম নিতে লোকজন আরও খেপে গেল, 'কি বলছিস,এই বৃদ্ধ মানুষ করবেন? তোদের সাহস তো কম নয়...মিথ্যে অপবাদ দিতে তোর মুখে বাধছে না।'
ছেলেগুলোর কথা কেউ বিশ্বাস করল না। ওদের ভাগ্য ভাল, স্রেফ শাসানি দিয়ে রেহায় দেওয়া হল।
লোকজন চলে যাওয়ার পরে থমথমে মুখ হওয়া ছেলেদের বললেন, 'কিরে আর আমার সাথে পাঞ্জা লড়তে আসবি?'
ছেলেগুলোর মুখ দিয়ে কথা বেরোয় না,ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে.....

উড়োচিঠি

প্রাপক,

আকাশনীলা,

ঠিকানাহীন।
এই শহরে আমার কোন বন্ধু ছিল না, ছিল ছিপ নৌকার মত এক বিষণ্ণ কিশোরী, যে আমাকে মাঝেমাঝে ভালোবাসার চিঠি লিখত। তবে আমি তার ভালোবাসাকে কখনো স্পর্শ করিনি। পালকে শোকের চিহ্ন নিয়ে আজ আমি পলাতক, তুমি জানলে না!!!
আর জানবেই বা কি করে? হয়তবা তুমি ছিলেনা বলে,,,
প্রায় প্রতিটা রাত কেটেছে নির্ঘুম । চোখের পাতাগুলো যখন ক্লান্তি আর অবসাদে যখন একটা অপরটার উপর লুটিয়ে পড়ত, তখন নিদ্রা দেবীর কোলে নিজেকে এলিয়ে দিতাম। মেয়ে, তুমি জান কি, আমার ঘুমন্ত প্রহরগুলো ছিল স্বপ্নহীন, ফ্যাকাসে জীর্ণ কুটিরের মতঅবসর বেলা গুলো কিছু অর্থহীন বেস্ততায় কাটানো ছাড়া আর করার ছিল না কিছুই। অনেকের ভিড়ে একা থাকার একরাশ নিদারুণ হতাশা নিয়ে কেটে যাচ্ছিল জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত, মলিন হচ্ছিল রঙ্গিন বসন্ত। আবেগময় বর্ষার বারিধারাকে খোঁড়া রাস্তার কাদার যোগানদার ছাড়া পারতাম না আর কিছুই ভাবতে । আমি নিজের রাজ্যে ছিলাম বড় অসহায়।
তারপর, একদিন , বিবসনে মনে - কুহেলী সরিয়ে বসে, পাপ দেখা ভোরে তুমি এলে তাইক্ষণিকের তরে, আমার একাকি রাজ্যে সুখস্বপ্নেরা মেরেছিল হানা। জীবনটা তার মানে খুঁজে পেয়েছিল। সুখের আবেশ ছড়িয়ে ছিল মনের রাজ্যের প্রতিটি কোনায়। ভালোবাসাকে ভালোবাসিয়ে ছিলে, যদিও অনেকটা জোরপূর্বক ছিল। তারপরেই তো মনে হয় হারিয়ে গেলে, ঘুণপোকা খাওয়া কোন এক অবেলায়।
আর আজ, তুমি নেই বলে,,
ঠিকানাবিহীন পথে, আমার পথচলা
জানিনা শেষ কোথায়,,,,,


কথাগুলো তোমাকে কেন বলছি জানা নেই, না আছে তোমাকে হারাবার কষ্টহয়তবা তুমি কখনই আমার ছিলে না বলেই কষ্ট নেই। কখনই তো তোমাকে চাইনি, আমার একার রাজ্যে একাকী বেশ তো ছিলাম। কেন তুমি এলে? আর যখন একা করে চলে গেলে, এখন কেন আমি ভালো নেই, জান কি? থাক, আর কষ্ট নিয়ে জানতে হবেনা, কারন কোন উত্তর তুমি দিতে পারবে না। আর যেদিন পারবে সেদিন উত্তর শোনার জন্যে হয়ত আমিই থাকব না।
সুখে থেক, অনেক সুখে, যতটা কষ্টে বেঁচে আছি, তারচেয়েও অনেক বেশী সুখে। যার বেশী কেউ থাকেনি কখনো।
প্রেরক,
সেই অচেনা নিশাচরের দেবতা,,,,,

সর্বংসহা ফেসবুক


কথাগুলো ব্যথা হয়ে
বুকের মধ্যে জমানো
নিশিদিন ভাবছি তাই
কি করে যায় কমানো।
মনের কথা তোমায় ক
হারিয়ে ফেলা মনের ভুল
আছো কোথাও অন্যে বিভোর
এই আমিটা  অপ্রতুল ।
এই আমিটা লিখে গেলো
গোপন কথা রুষ্ট দুঃখে
একলা আমার নিত্যসঙ্গী
সর্বংসহা ফেসবুকে। 

তুমি ভাগ্যবান

তোমার যদি ফ্রিজে খাবার থাকে, গায়ে কাপড় থাকে, মাথার ওপর ছাদ থাকে, রাত্তিরে ঘুমোবার জন্য জায়গা থাকে --- বুঝবে, গোটা পৃথিবীর ৭৫% লোকের চেয়ে তুমি ধনী। 


তোমার পকেটে যদি কিছু টাকা থাকে, কিছু ভাংতি থাকে আর তুমি তোমার মনমত যেখানে খুশি যেতে পার --- বুঝবে তুমি গোটা পৃথিবীর ১৮% বিত্তশালীদের একজন।


তুমি যদি সুস্থ-সবল-নিরোগ শরীর নিয়ে আজকের দিনটা বাঁচতে পার --- তাহলে বুঝবে তুমি পৃথিবীর সেই ১০ লক্ষ লোকের চাইতে সুখী যারা আগামীকাল বা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই মারা যাবে।

তুমি যদি আমার এই বার্তাটা পড়তে পার এবং এর অর্থও বুঝতে পার --- তারমানে তুমি সেই ৩০ লক্ষ মানুষের চেয়ে ভাগ্যবান যারা চোখে দেখতে পায় না বা মানসিক সমস্যায় ভোগে।

জীবনটা পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলাবার স্থান নয়, অহেতুক অভিযোগের সময়কাল নয়। হাজারটা কারণে তোমার উচিত তোমার সৃষ্টিকর্তার ওপর কৃতজ্ঞ হওয়া। 

আসুন, আজ যে আমরা মানবজীবন লাভ করেছি, স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি, এজন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি



ছেড়া নোঙর

আমার শৈশবের মত দামী, আমার কান্না জড়ানো গান,
মাথা উচু সেইন্ট গ্রেগরী আমার, সময়ের টানে ম্লান ।
আমার পরিচিত লাস্ট বাস, আমার ভাঙ্গাচোরা নিঃশ্বাস,
ব্রাদার চার্লসের চুইংগাম, আমার রক্ত আমার ঘাম,
আমার লাস্ট বাসে বাড়ি ফেরা, মাথা তুলবার তাড়া,
আমার জাহাজের পাটাতন, ছেড়া নোঙর, ছেড়া মন,
ছেড়া নোঙর
................................